শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে মালদা কলেজ

গত ৬ই মে,  ২০২১ অতিমারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন মালদা কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক ডক্টর পুষ্পজিৎ রায়। শুধু কলেজে অধ্যাপনা নয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বৃহত্তর ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অসামান্য। কবি, প্রাবন্ধিক, 'জোয়ার' পত্রিকা সম্পাদক, সুবক্তা পুষ্পজিৎ রায় সদা ব্যস্ত, সচেষ্ট থেকেছেন সমাজকল্যাণমূলক কাজে, মানবিক চেতনার প্রসারের কাজে।


অতিমারী আক্রান্ত হয়ে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি।  ১৩ই মে, ২০২১-এ মালদা কলেজ দ্বারা গুগল মিট মাধ্যমে আয়োজিত তাঁর স্মরণসভার সূচনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করার পরে আরম্ভ হয় সদ্যপ্রয়াত এই অধ্যাপককে কেন্দ্র করে স্মৃতিচারণ। এই সভায় প্রথম বক্তা অধ্যক্ষ ডক্টর মানস কুমার বৈদ্য। তিনি বারবার এই গুণী মানুষটির অসামান্য সৌজন্যতাবোধের কথা উল্লেখ করেন, যাঁর সামনে দাঁড়ালেই সুন্দর কথা, ভরসা, আশ্বাস, আশ্রয় খুঁজে পাওয়া যেত। প্রসঙ্গত উল্লেখ করেন, একবার তিনি নিজে হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন তাঁকে দেখতে গিয়ে ছিলেন ডক্টর পুষ্পজিৎ রায়। একজন প্রবাসী নবীন অধ্যাপকের জন্য এই উদ্বেগ ও স্নেহ ডক্টর বৈদ্যর এক মূল্যবান স্মৃতি।


তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন অধ্যাপক রায়ের নিজের আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা। আজীবন বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায় অবিচল, অটল থেকেছেন তাঁর পথে, যা সমকালীন প্রেক্ষাপটে আরো বেশী উল্লেখযোগ্য । কলেজের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অধ্যাপক রায় তাঁর সহযোগিতার হাতটি চিরকাল বাড়িয়ে রেখেছিলেন। এই রকম একজন মানুষের শূন্যতা কখনই পূরণ হবার নয়। 


অধ্যক্ষ মানস বৈদ্যের পরে অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায়ের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপিকা শ্রীমতী ব্রততী মিশ্র। মালদা কলেজেরই প্রাক্তনী ব্রততী এই অসামান্য জ্ঞানীগুণী মানুষটির কাছ থেকে চিরকাল অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের সুপ্ত গুণের প্রকাশ হোক - এই বিষয়ে অধ্যাপক রায়ের নিরলস প্রচেষ্টায় বিমুগ্ধ তাঁর ছাত্র ছাত্রীর দল। লোকসংস্কৃতির মগ্ন গবেষক অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায় মাটির কাছাকাছি থেকে সাধারণ মানুষ ও মাটির বুক থেকে উঠে আসা কথা, গান ও তার নান্দনিক সুরটিকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন।


ডক্টর পুষ্পজিৎ রায়ের প্রতিষ্ঠিত সবুজ অবুঝ শিশু অঙ্গনের ক্ষুদে পড়ুয়ারা স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান, নাচ, আবৃত্তি ইত্যাদি ছাড়াও নিজেরাই অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করার দায়িত্ব পেয়ে পরবর্তী জীবনে জড়তা, সঙ্কোচ কাটিয়ে নিজেদের প্রতিভাগুণকে মেলে ধরার সুযোগ লাভ করে। এই বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন শ্রীমতী স্বপ্না রায়। তিনি স্কুলের শিশুদের বড়দিভাই ও অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায়ের সুযোগ্যা সহধর্মিণী। মগ্ন শিশুসাহিত্যিক স্বপ্না রায়ও সমানভাবেই শিক্ষা সুরুচির পথ মসৃণ করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট। এঁরা দু'জন একে অন্যের পরিপূরক। 


সরস্বতী পুজোর পরিবর্তে ঐ বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে শিশুদের হাতের কাজের প্রদর্শনী সবুজ অবুঝ স্কুলের অন্যতম একটি বিশেষ দিক যা অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায়ের মৌলিক ভাবনাপ্রসূত। মাটি কাগজ পিচবোর্ড কাঠ এবং ছড়িয়ে থাকা কত কী  দিয়ে তৈরী শিশুদের হাতের কাজের নয়নাভিরাম সম্ভার ও স্কুলের মুক্ত মঞ্চে তাদের নাচ গানের আসরের মাধ্যমে সবুজ অবুঝ শিশু অঙ্গন অকৃত্রিম সারস্বত সাধনার অঙ্গন হয়ে ওঠে। শ্রদ্ধেয় পুষ্পজিৎ রায় ছিলেন একনিষ্ঠ রবীন্দ্র ভাবনায় অনুপ্রাণিত। তাঁর ভাবনা ও কাজে সেই সুরটি বেজেছে চিরকাল। কবি পুষ্পজিৎ রায় রচিত


"ভালোবাসি রোদ জল, আলোর কিরণ

ভালোবাসি নীলাকাশ নদী মাঠ বন।

ভালোবাসি ফুল গান অমল জীবন,

ভালোবাসি আমাদের শিশু অঙ্গন।"- 


এই প্রার্থনা সবুঝ অবুঝ শিশু অঙ্গনের শিশু পড়ুয়াদের নিত্য দিনের পাঠ। এই অমল জীবনের সাধনায় নিজেকে মগ্ন রাখার চেষ্টা ছিল তাঁর প্রতিদিনের জীবনচর্চার আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। প্রায় প্রতিদিন কোনো না কোনো সভা ও সংস্কৃতিচর্চায় তিনি ব্যস্ত থেকেছেন ও সেই সঙ্গে প্রত্যহের ম্লান স্পর্শ থেকে মুক্তির স্বাদ এনে দিয়েছেন তাঁর সহযোগী ও উপস্থিত শ্রোতাদের মনে। কোনো বিশেষ আড়ম্বরের দরকার ছিল না। সবুজ অবুঝ শিশু অঙ্গনের গাছপালা ঘেরা মাটির প্রাঙ্গণ, বকুলছায়ায় খড় ছাওয়া সুরভিত বউল বিতান বা লেখকশিল্পী সংঘের কোনো সদস্যের বাড়ির এক ফালি বারান্দা বা ছাদ - সব জায়গাতেই আসর বসেছে তাঁর আন্তরিক উৎসাহ ও ব্যবস্থাপনায়। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি  অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায় সব প্রতিকূলতা দূরে রেখে এই সব অনুষ্ঠানে নিখুঁতভাবে সময়সূচি মেনে উপস্থিত থাকতেন। দেশ বিদেশের জ্ঞানীগুণী শিল্পী কবি স্মরণ, তাঁদের নিয়ে আলোচনা, মানুষের বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার যে সব আন্দোলন - নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে অগণিত সভা অনুষ্ঠিত  হয়েছে। সব সভায় তাঁর উপস্থিতি সব শূন্যতা ভরাট করে রাখতো। শান্তিনিকেতনে গ্রীষ্ম অবকাশের সময় মাত্র ক'জন ছাত্রের উপস্থিতিতে পাশ্চাত্য জগতের অন্যতম জ্ঞানী মানুষ সিলভা লেভির সভায় প্রায় ফাঁকা সভায় উপস্থিত থেকে মন দিয়ে আলোচনা শুনে নোট তথ্য লিখে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এমন কথা লিখেছেন শান্তিনিকেতনের প্রাক্তনী বিশিষ্ট সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী। সেইরকমই কখনো ফাঁকা সভায় বা ঐরকম কোনো অনুষ্ঠানে একজন সামান্য আলোচক হিসেবে সৈয়দ মুজতবা আলীর এই কথাগুলোই মনে হত, যখন অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায় তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে শুনেছেন সেই আলোচনা। শ্রীমতী ব্রততী মিশ্রর আলোচনায় প্রসঙ্গটি এইভাবে উঠে আসে এবং নিশ্চিতভাবে এই অনুভব প্রায় সকলের। বাইরে সৌধ ইমারত ইঁট কাঠের মধ্য দিয়ে অগ্রগতির বাড় বাড়ন্ত সহজেই চোখে পড়ে। কিন্তু অন্তরের আলো দিয়ে সারা জীবন ধরে আরো প্রদীপ জ্বালানোর দুঃসাধ্য কাজ যাঁরা করে যান, বাইরে থেকে হয়তো তা চোখে পড়ে না, কিন্তু তার প্রভাব পৌঁছে যায় যুগ থেকে যুগান্তরে। আটাত্তর বছর বয়সে প্রয়াত এই চিরতরুণ মনের মানুষটির অকাল বিয়োগ মালদার তথা উত্তরবঙ্গের বিরাট ক্ষতি যা অপূরণীয়। ব্যক্তিগত জীবনে 'স্যার' ও 'দিদি'র অপ্রতুল স্নেহদৃষ্টি এক দুর্লভ সৌভাগ্য - এ কথা নানা প্রসঙ্গ ধরে বার বার উঠে এসেছে ব্রততী মিশ্রের আলোচনায় ।


অধ্যাপিকা ব্রততী মিশ্রর পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মালদা কলেজের আরেক প্রাক্তনী, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শ্রী প্রভাস চৌধুরী। দীর্ঘ পরিচিতির সূত্র ধরে তিনি অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায়ের সঙ্গে যে এক সময় বিশেষ ভাবে জড়িয়ে ছিলেন সে কথার উল্লেখ করেন। স্মরণ করেন সবুজ অবুঝ শিশু অঙ্গনের শিশুদের নাটক পরিচালনা করার স্মরণীয় দিনগুলি। এই প্রসঙ্গে তিনিও শ্রীমতী স্বপ্না রায়ের কথা উল্লেখ করেন। স্বরচিত গল্প ছড়ার একগুচ্ছ বই নিয়ে বাড়িতে গিয়ে তাঁরা দুজনে নাটকের পরিচালক প্রভাস চৌধুরীকে সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসেন, যা তাঁর এক মূল্যবান স্মৃতি। অধ্যাপক প্রভাস চৌধুরী প্রয়াত অধ্যাপকের স্মরণে একটি স্বরচিত কবিতা পাঠ করে সেদিনের বক্তব্য শেষ করেন, যে কবিতাটি অধ্যাপক রায়ের মালদা কলেজ থেকে অবসর নেওয়ার সময় লেখা হয়েছিল ও তাঁর বিদায় সভায় তিনি এটি পাঠ করেছিলেন:


শান্তি লও অবসরের

সেদিন যেমন দিন ছিলো, সেদিন ছিলো রাত্রি,

কমন শুধু রুমের ভেতর একেকজন যাত্রী।

কারুর মুখে হাসি নেই, কারুর ভীষণ মুখ ভার,

কেউ আবার অল্পেতেই 

সেসব শুধু গল্পেতেই

জ্বর গায়ে যে ঘুরত তার

মুখটি দেখে সংযত  -

যত মুখ তার মধ্যে স্মিতবাক –দুর্বিপাক সহ্য করে

একটুখানি হাসির সুখ

সঙ্গে ঐ অমল ঐ সহিত ঐ কলেজ কার

নলেজ সব ফালতু সব আলতো ঐ ছড়ায় মন,

গড়ায় আর দিনগত পাপের ক্ষয়।

পুণ্যবান হে শরীর

বিদায় লও বিদায় লও 

যত্নবান হে শরীর।

শান্তি লও শান্তি লও

শান্তি লও অবসরের।


কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও বর্তমানে পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর উত্তম সরকার কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক, জোয়ার পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায়ের সহজ, সরল, নিরভিমান স্বভাবের উল্লেখ করেন তাঁর স্মৃতি তর্পণে। কাজের ব্যস্ততায় কত দিন সবুজ অবুঝের পড়ুয়া দুই সন্তানকে স্কুল থেকে আনতে দেরি হয়ে গেছে, অর্থাৎ ছুটির পরেও দুই ভাইবোনকে তাদের বাবার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। নিশ্চয় বাচ্চাদুটোর খুব কষ্ট হয়েছে ছুটি হবার পরেও অতিরিক্ত সময় স্কুলে থাকতে - এ কথা তিনি ভেবেছেন। কিন্তু বাড়ি এসে তাদের কাছ থেকে শুনেছেন ঠিক উল্টো। কারণ এই দুটি শিশুকে সঙ্গ দিয়ে নানা রকম কথা ও খেলাধূলার মধ্যে আনন্দে রেখেছিলেন যিনি, তিনি হলেন 'বড়দাদাভাই' অর্থাৎ অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায় নিজে। শিশুদের জন্য এমন ভালোবাসা, সতর্ক দৃষ্টি অধ্যাপক রায়ের অন্যান্য গুণের সঙ্গে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা তাঁর অন্তরের নির্মল শুভ্রতা ও চিরশিশুটিকে তুলে ধরে সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন অধ্যাপক উত্তম সরকার।


প্রয়াত অধ্যাপককে স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপিকা ডক্টর শ্রীমতী অনুরাধা কুন্ডা। অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায় ও শ্রীমতী স্বপ্না রায় - দুজনের সম্মিলিত পথ চলার সুন্দর ছন্দ মনে রাখার মতো। 'আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে' - রবীন্দ্রনাথের এই গানটিকে কেন্দ্র করে আলোচনার কথা স্মরণ করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানটি যাঁর উৎসাহে সম্পন্ন হয়েছিল, তিনি ছিলেন জেলার বিশিষ্ট চক্ষুচিকিৎসক ডক্টর সুব্রত সোম। অতিমারী করোনাতে তিনিও আজ অকালপ্রয়াত। কিন্তু সেখানেও অধ্যাপক রায়ের বিশেষ উপস্থিতি রবীন্দ্রনাথের এই একটিমাত্র গান নিয়ে অনুষ্ঠানটিকে তাঁর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রেখেছে এ কথা জানালেন। সবুজ অবুঝ শিশু অঙ্গনে বহু বিশিষ্ট মানুষের সমাগম হয়েছে ও পুষ্পজিৎ বাবুর আমন্ত্রণে তিনিও উপস্থিত হয়েছেন কতবার কত উপলক্ষ্য কেন্দ্র করে। সামগ্রিক ভাবে প্রয়াত পুষ্পজিৎ রায়ের স্নিগ্ধ, বিদগ্ধ উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের ছবিটি তিনি বারবার তুলে ধরার চেষ্টা করেন।


বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে প্রায় সকলেই ঐ বিভাগের স্বনামধন্য প্রাক্তন অধ্যাপকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বাংলা বিভাগের সঙ্গে চিরকাল যোগাযোগ রেখেছেন ও সব সময় সহযোগিতা করে গেছেন আন্তরিক উৎসাহের সঙ্গে - অধ্যাপক নারায়ণ সাউ সেই কথাটি উল্লেখ করেন। কলেজের পঁচাত্তর বছর পূর্তির পুনর্মিলন উৎসবে স্যারের উপস্থিতির কারণে বাংলা বিভাগ গর্বিত ও আনন্দিত।


অধ্যাপিকা শ্রীমতী রুম্পা মণ্ডল তাঁর স্নেহ সম্ভাষণ ও স্থান কাল নির্বিশেষে সুমিষ্ট আলাপচারিতার কথা স্মরণ করেন। এমন একজন সহজ অথচ বিপুল জ্ঞানী শিক্ষক বিরল। স্যারের কাছ থেকে পাওয়া গেছে একটি দুর্লভ ছবি যা বাংলা বিভাগের NAAC পরিদর্শকদের মুগ্ধ করে এবং বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ছবিটি হল দূর অতীতের। ছবিটির কেন্দ্রবিন্দু বাংলা অনার্সের প্রথম বছরের ছাত্র ছাত্রী দল।


বিভাগীয় প্রধান হিসেবে ডক্টর মহাশ্বেতা রায় শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিষয়টির উল্লেখ করেন ও এই দুর্লভ সংরক্ষণটির মাধ্যমে বাংলা বিভাগের প্রশংসা প্রাপ্তির কৃতিত্ব প্রাক্তন অধ্যাপক ডক্টর পুষ্পজিৎ রায়েরই প্রাপ্য - সে কথা স্মরণ করেন।


বাংলা বিভাগের নবীন অধ্যাপক ডক্টর বিপ্লব চক্রবর্তী বিশেষভাবে স্মরণ করেন 'জোয়ার' পত্রিকার অর্ধশত পথ পরিক্রমার কথা। পুষ্পজিৎ রায়ের সৃষ্টি এই পত্রিকা নিয়মিত শিল্প ও মননচর্চার ক্ষেত্র দীর্ঘ প্রসারিত করে মালদার জনগণের কাছে এক বিরল উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছে।  বিশেষ কোনো আলোচনা সভায় অধ্যাপক রায় বাংলা উচ্চারণ শুদ্ধ রাখার বিষয়ে তাঁকে ও তাঁর মতো বহু ছাত্র ছাত্রীকে সমৃদ্ধ করেছিলেন - সে কথা স্মরণ করেন তিনি। 


সামগ্রিকভাবে শিক্ষক, গবেষক, লোকসংস্কৃতির ধারক, সুবক্তা ও একজন আদর্শ মানবপ্রেমিক হিসেবে ডক্টর পুষ্পজিৎ রায়ের কাছে আমাদের ঋণ অসামান্য - এই কথা স্মরণ করেন তিনি।


বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর গৌতম ঘোষ ডক্টর রায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশেষভাবে তাঁর সঙ্গে অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায়ের বিভিন্ন লোকসংস্কৃতিবিষয়ক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কিছু স্মরণীয় অভিজ্ঞতা স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে। অধুনা উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের মানুষ ডক্টর গৌতম ঘোষ ও অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায়। ঐ অঞ্চলের লোকগান 'খনগান'এর অনুষ্ঠানের আয়োজন ও সম্প্রসারণে পুষ্পজিৎ রায়ের আন্তরিক আগ্রহ ও অবদানের সূত্রে ডক্টর রায়কে যথার্থই একজন জীবনরসিক মাটির কাছাকাছি বিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা অধ্যাপক গৌতম ঘোষের এক মূল্যবান প্রাপ্তি - সেই কথা তিনি উল্লেখ করেন।


প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক ডক্টর তপন মণ্ডল অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায়ের সমাজ সচেতনতা, সাম্যবাদী আদর্শবোধ ও সর্বোপরি অধ্যাপক রায়ের অমায়িক ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন।


মালদা কলেজের শিক্ষাকর্মী প্রধান শ্রী বুলবুল মণ্ডলও অধ্যাপক রায়ের সহমর্মিতা সৌজন্যতার কথা স্মরণ করেন ও শ্রদ্ধা জানান। সামগ্রিকভাবে মালদা কলেজ পরিবারের সকলেই অধ্যাপক পুষ্পজিৎ রায়ের আকস্মিক বিয়োগে মর্মাহত ও গভীর শূন্যতার বিষয়টি অনুভব করেন ও তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে ও যথোচিত সঙ্গতি রেখে পরিচালনা করেন শিক্ষক সংসদের সভাপতি শ্রী পীযূষ কান্তি সাহা।




119 views0 comments